November 27, 2022

বিয়ে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়৷ বিয়ে নিয়ে কথা বলতে অনেকেই লজ্জা পান৷ আবার অপর দিকে গোপেন গোপনে রিলেশন করেন৷ তবে, তারা ধরা পরে গেলে ফ্যামিলি বিয়ে করিয়ে দেন৷ কিন্তু মাঝে সমস্যায় পরেন কছু লাজুক ছেলে মেয়ে৷ তবে মেয়ারা এক্ষেত্রে একটু সমস্যায় কমই পড়েন৷

কেন তা বলছি, তার আগে একটা ঘটনা বলি,

আমাদের পাশের বাড়ির একটি ছেলে বয়স সর্বোচ্চ হলে ১৬ বা ১৭ হতে পারে৷ সে একটা মেয়ের সাথে রিলেশন করে৷ মেয়ের বয়স হয়তো ১৩ বা ১৪ হবে৷ দুজনে একই ক্লাসে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে৷ তাদের রিলেশন মোটামুটি ছয় সাত মাস চলে৷ এরপর কোন কারণে বিষয়তা ফামিলির দৃষ্টিগোচর হয়৷ তারপর ফামিলির সবাই বিষয়টা তদন্ত করে দেখেন৷ আসলেই, ঘটনা সত্য৷ আর তাই ছেলে মেয়েকে বিয়ে করিয়ে দেন৷

অথচ, ওই ছেলের বড় আরো তিন ভাই আছে৷ যারা এখনো বাহিরে থাকে৷ তাদের বয়স কম করে হলেও ৩২+ হয়ে গেছে৷ কিন্তু তারা বাহিরেই আছে বিয়ে করেনি৷ আর ফামিলি থেকেও কোন চাপ নেই বিয়ে করার৷ কেউ কোন দিন বলেও না৷ দেশে আয় তোর বিয়ে করা দরকার৷  আর কত বিদেশ থাকবি৷ এবার দেশে আয়৷

মা বাবা বলে না, বাবা দেশে আস! তোকে বিয়ে করি দেই৷ না হয় পরে আবার বিশে যাস৷ কখনো বলেনি৷ কিন্তু ছোট ছেলে এখনো আইন অনুযায়ী বালক৷ যাদের বিয়ে করার বয়স হয়নি তাদের বিয়ে করিয়ে দিচ্ছেন৷

এটাই আমাদের সমাজের চিত্র৷ মেয়েদের কে বিয়ে দেয়া হয় বয়স হওয়ার আগেই৷ আর ছেলেদের বিয়ে করানো হয় না বয়স হবার পরেও৷

ছেলেকে বলে আগে প্রতিষ্ঠিত হও তারপর বিয়ে করো৷ আর মেয়ের বেলায় তোরে বিয়া দিতে পারলেই বাচি৷ একটা মেয়ের বিয়ের বয়স না হতেই বিয়ে দিতে ফামিলি রাজি৷ বাল্য বিবাহ দিচ্ছে তাতে একটু ও সমস্যা মনে করছেন না৷ মেয়েকে বিয়ে দিয়ে নিজেকে উদ্ধার মনে করছেন৷

শতকরা ৯০% ভাগ বাবা-মা এই রকম৷ বিশ্বাস না হয় নিজেই একটু খোজ নিয়ে দেখেন৷ এছাড়া নিজের দিকে তাকান নিজেকে নিয়ে ভাবেন৷ উত্তর পেয়ে যাবেন৷

ছেলেদের প্রতি অবিচারঃ একটা ছেলের বিয়ের বয়স হওয়ার পরেও তার বিয়ের ব্যবস্থা না করার কারণে যদি ছেলেটা খারাপ কাজে লিপ্ত হয় তবে তার দায়িত্ব কে নিবে? বাবা-মা নিবে? দেশ বা সরকার নিবে?

কখনোই নিবে না৷ কিন্তু একটা মেয়েকে যদি বাল্য বিবাহ দেয়া হয় তখন দেশ বলে সমাজ বলে তারা বাধা দেয়৷ বিয়ে বন্ধ করে দেয়৷ কিন্তু একটা পরিপূর্ণ বয়স্ক ছেলেকে কেউ বিয়ে করিয়ে দেয় না৷ কেউ তাকে সাহায্য করে না৷ কেউ তাকে অনৈতিক কর্ম থেকে বিরত থাকার ব্যবস্থা করে দেয় না৷

এক্ষেত্রে ছেলেদের প্রতি অবিচার করা হচ্ছে৷ ছেলেদের বিয়ের বয়স হওয়া সত্ব্বেও বিয়ে দেয়া হচ্ছে না৷ আর মেয়েদেরকে বাল্যবিবাহ দেয়া হচ্ছে৷

এর কয়েকটি কারণ থাকতে পারে৷ মুল কয়েকটি কারন তুলে ধরছি৷

  • ছেলেরা ইনকাম করতে পারে৷ যার কারনে বাবা মা বিয়ে করিয়ে দেয় না৷ বেশির ভাগ ছেলে বিয়ের পরে বাবা মা কে দেখে না৷
  • ছেলেরা বাবা মা আলাদা করে দেয়৷
  • স্ত্রী সন্তান নিয়ে আলাদা থাকে৷
  • ছেলেদের উপর বাবা মা ভরসা করতে পারে না৷
  • বিয়ের পর যদি দেখা শুনা না করে৷
  • ইনকাম না করতে পারা৷ ৷
  • নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে না পারা৷
  • নিজের ভিত্তি তৈরি করতে না পারা৷

মেয়েদের ক্ষেত্রে এ বিষয়গুলো কাজে লাগে না৷ মেয়েরা বরং উলটা৷ বাবা মা মনে করেন৷ মেয়ে বিয়ে দিতে পারলে বাচি৷

  • কেননা, মেয়ে তো আর ইনকাম করতে পারে না৷
  • মেয়ে তো সারাবছর বাবপের বাড়ি থাকে না৷ তদের শশুর বাড়ি যেতেই হবে৷ এজন্য তাদের বিয়ে দ্রুত দেয়া হয়৷
  • মেয়েদের পিছনে খরচ বেশি৷ তাই দ্রুত বিয়ে দিয়ে দেয়৷
  • ফ্যামিলি মনে করে একদিন তো শশুর বাড়ি যেতেই হবে৷ তাই আগে যাওয়াই ভালো৷ আগে আগে বিয়ে দিয়ে দেয়৷ যাতে পরিবারে সব দিকে খরচও কমে৷

বিয়ে আর পরিবার দুটো দুই ঝামেলা৷ পরিবার বিয়ে কে একটা ঝামেলা মনে করে৷ ঝামেল না হলে কি আর দুই রকম হতো৷ মেয়েদের কে দ্রুত বিয়ের জন্য পাগল হয়ে যান৷ আর ছেলেদেরকে বিয়ে না করি পারলে করান না৷ এটাই বর্তমান পরিভার সমাজের অবস্থা৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Subscribe To Our Newsletter