November 27, 2022

ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে ইনকাম | ফ্রিল্যান্সিং করে কিভাবে টাকা ইনকাম করা যায় সেরা কিছু টিপস: বর্তমান সময়ে তরুন প্রজন্মের কাছে ফ্রিল্যান্সিংকে ক্যারিয়ার হিসেবে নেওয়াটা এখন ট্রেন্ডিং বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর ঠিক এই কারণে অনলাইনে ইনকাম ও ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে প্রশ্নের কোন শেষ নেই। ফ্রিল্যান্সিং করে নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে অনেকেই আছেন, সঠিক তথ্য জানতে ব্যতিব্যস্ত।

আজকে আমরা আমাদের আর্টিকেলে খুব অল্প আলোচনার মাধ্যমে সুস্পষ্ট ভাবে তুলে ধরব, ফ্রিল্যান্সিং করে টাকা ইনকাম করার উপায়। প্রিয় পাঠক বন্ধুরা, আপনি কি ফ্রিল্যান্সিং করে টাকা ইনকাম করতে চান, ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে চান, আপনি কি চান ফ্রিল্যান্সিং মাল্টিপ্লেসে নিজের পরিচিতি করে তুলতে! তাহলে অবশ্যই এই আর্টিকেলটি স্কিপ করবেন না- সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে পড়বেন। আজকের আলোচনার বিষয়:

  • ফ্রিল্যান্সিং কি?
  • ফ্রিল্যান্সিং করতে কি কি প্রয়োজন?
  • কিভাবে একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হওয়া যায়?
  • ফ্রিল্যান্সিং করার সেরা ওয়েবসাইট গুলো কি কি?
  • ফ্রিল্যান্সিং এর ভবিষ্যৎ কেমন?
  • ফ্রিল্যান্সিং কেন করবেন?
  • কিভাবে শুরু করা যাবে ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার?
  • ফ্রিল্যান্সিং করে কত টাকা আয় করা যায়?
  • ফ্রিল্যান্সিং করে কারা টাকা ইনকাম করতে পারে?
  • ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে কি ধরনের কাজ করা যায়?
  • ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে কাজ করার উপায় এবং সেরা কোলাকৌশল গুলো কি কি?

তাহলে চলুন ধারা বাহিক ভাবে প্রত্যেকটি বিষয় স্টেপ বাই স্টেপ জেনে নেই। সেই সাথে ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নেই ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস।

ফ্রিল্যান্সিং কি?.

ফ্রিল্যান্সিং মূলত একটি পেশা। যার মাধ্যমে যে কেউ ইন্টারনেটে বিভিন্ন ধরনের কাজ করে অর্থ উপার্জন করতে পারে। অফিস আদালতে গিয়ে যেমন আমরা চাকরি করি ঠিক একই ভাবে ফ্রিল্যান্সিং হচ্ছে একটি চাকরি। কিন্তু সরকারি চাকরি আর ফ্রিল্যান্সিং এর মধ্যে পার্থক্য একটাই, সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে আপনার কোন একটা বস থাকবে, তার হুকুমদারি পালন করতে হবে, কিন্তু ফ্রিল্যান্সিং এর ক্ষেত্রে আপনি নিজেই আপনার বস হবে।

মানে যে কোন কাজ আপনি আপনার স্বাধীন মত করতে পারবেন। সরকারি চাকরি করতে গেলে মাসে সরকারি ছুটির ছাড়া আপনি চান অথবা না চান, আপনার শরীর ভালো থাকুক অথবা না থাকুক, আপনার কোন বিপদ হোক অথবা না হোক অবশ্যই চাকরির ডিউটি দিতে হবে। আর সেটা যদি একদমই সম্ভব না হয় ছুটি নিতে হবে। অথচ ফ্রিল্যান্সিং যদি আপনার ক্যারিয়ার হয় তাহলে এক্ষেত্রে আপনার কারো পারমিশন নেওয়ার প্রয়োজন নেই একটা দিন গ্যাপ দেওয়ার। আপনি মূলত আপনার মর্জি মাফিক কাজ করতে পারবেন।

যখন খুশি তখন করতে পারবেন সেটা রাত হতে পারে দিন হতে পারে। আর তার চাইতে বড় কথা সাধারণ চাকরির চাইতে ফ্রিল্যান্সিং এর একটি বড় পার্থক্য হচ্ছে, ফ্রিল্যান্সিং এর নির্দিষ্ট কোন অফিস নেই। ফ্রিল্যান্সিং এর অফিস আছে আপনার বাড়ি। মানে আপনি যখন যেখানে থাকবেন তখন। এই চাকরি ঠিক করতে আপনাকে কোন নির্দিষ্ট স্থানে, কোন নির্দিষ্ট দেশে অবস্থান করতে হবে না। আপনি যে কোন স্থান থেকে আপনার কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন। সুতরাং ফ্রিল্যান্সিং হচ্ছে এমন একটি পেশা, যার মাধ্যমে এটি স্বাধীন জীবন উপভোগ করা যায় এবং দিনশেষে খেয়াল খুশিমতো থেকেও ইনকাম করা সম্ভব হয় হিউজ পরিমাণ টাকা।

ফ্রিল্যান্সিংয়ের জন্য কি কি প্রয়োজন?

একটি কমন প্রশ্ন হচ্ছে ফ্রিল্যান্সার হতে গেলে কি কি লাগবে? মানে কেউ যদি ফ্রিল্যান্সিংকে পেশা হিসেবে নিতে চায় তাহলে তার কাছে কি কি থাকতে হবে! সত্যি বলতে ফ্রিল্যান্সিং করতে গেলে কি কি লাগবে সেটা একটা তর্কের বিষয়। কারণ একেক জন একেক রকম মন্তব্য করে থাকেন। তবে অনেকেই বলে থাকেন আপনার যদি কোন কাজে দক্ষতা থাকে এবং সেটি আপনি সম্পূর্ণ করতে সক্ষম হন তবে ফোনে ফ্রিল্যান্সিং করা সম্ভব।

তাই ফ্রিল্যান্সিংয়ের জন্য মোবাইল ফোন লাগবে। আর মোবাইল ফোনের পাশাপাশি ইন্টারনেট সংযোগ লাগবে এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে হ্যাঁ আপনি যদি ফ্রিল্যান্সিং করতে চান এবং সব ধরনের কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তাহলে সে ক্ষেত্রে আপনাকে বেশ কিছু সরঞ্জাম সংগ্রহ করতে হবে। মানে আপনার কাছে থাকতে হবে:

  • একটা এন্ড্রয়েড ফোন
  • কম্পিউটার অথবা ল্যাপটপ
  • ভালো ইন্টারনেট কানেকশন অথবা মডেম
  • কাজে লাগানোর মত সময়
  • কাজের দক্ষতা
  • নতুন নতুন জানার আগ্রহ
  • ধৈর্যধারণের সক্ষমতা
  • কাজ করার মন-মানসিকতা।

ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে কি কি কাজ করা যায়?

অসংখ্য ফ্রিল্যান্সিং কাজ রয়েছে। মানে আপনি যদি ফ্রিল্যান্সিং করতে চান তাহলে প্রচুর ধরনের কাজ করতে পারবেন। সেগুলো হচ্ছে:

  • Writing
  • ফটোগ্রাফি
  • গ্রাফিক্স ডিজাইন
  • অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট
  • ওয়েব ডেভেলপমেন্ট
  • ওয়েব ডিজাইন
  • সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট
  • ট্রান্সক্রিপশন
  • টিচিং
  • ভিডিও এডিটিং
  • ভিডিও মেকিং
  • ডাটা এন্ট্রি
  • ব্লগিং
  • মার্কেটিং
  • ইউ এক্স ও ইউ আই ডিজাইনার
  • বিজনেস প্রভৃতি। 

এরমধ্যে রাইটিং হিসেবে আপনি কনটেন্ট রাইটিং, কপিরাইটিং, ট্রান্সলেশন, প্রুফ রিডিং ইত্যাদি কাজগুলো করতে পারবেন। অপরদিকে গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে, লোগো ডিজাইন, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ডিজাইন, ব্যানার ডিজাইন ইত্যাদির কাজ করতে পারবেন। ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট এর ক্ষেত্রে ওয়েবসাইট ডিজাইন করতে পারবেন, এসইও করতে পারবেন, web tool development, ওয়েবসাইট ডিবাগিং ইত্যাদির কাজ করতে পারবেন।

পাশাপাশি সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট হলে সফটওয়্যার ডিজাইনার এবং সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের কাজ করতে পারবেন আর ফটোগ্রাফি হলে ফটো এডিটিং, ওয়েডিং ফটোগ্রাফি ইত্যাদি করতে পারবেন। আর বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিংয়ে টিচিং বিষয়টি অনেক বেশি পপুলার।

যেখানে অনলাইনের বিভিন্ন কোর্স, ওয়ান অন ওয়ান টিচিং, কোচিং টিউশনি ইত্যাদি মাধ্যম টাকা উপার্জনের  জন্য সেরা। সাথে আরো আছে ডাটা এন্ট্রির কাজ। এক কথায়, ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে মূলত আপনার যা করতে ভালো লাগে আপনি সেটাই করতে পারবেন। শুধু এর জন্য লাগবে ধৈর্য ইচ্ছা শক্তি এবং লেগে থাকার প্রবল আগ্রহ।

ফ্রিল্যান্সিংয়ের জন্য সেরা ওয়েবসাইট

ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করার জন্য অনলাইন প্লাটফর্মে এমন অসংখ্য ওয়েবসাইট রয়েছে। তবে এরই মধ্যে অনেক অনেক ওয়েবসাইটের মধ্যে সবচাইতে জনপ্রিয় তা অর্জন করেছে হাতে গোনা কয়েকটি ওয়েবসাইট। যাদের কাছে গেলে আপনি ঠকবেন না এবং যেখানে কাজ করতে পারলে ইনকামের কোন চিন্তা থাকবে না আপনার। সে সব ওয়েবসাইট গুলো হচ্ছে:

  • ফাইবার
  • Up work
  • পিপুল পার পাওয়ার
  • ফ্রিল্যান্সার ডটকম
  • গুরু ডট কম
  • বিল্যান্সার।

তাই আপনি চাইলেই এই ওয়েবসাইটগুলোতে গিয়ে ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ শুরু করতে পারেন। তবে হ্যাঁ ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার পূর্বে অবশ্যই এ সম্পর্কে বেসিক কিছু ধারনা আপনাকে আয়ত্ত করতে হবে। বিস্তারিত আরো জানতে আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন—এই লিংকে

ক্যারিয়ার হিসেবে কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করবেন?

দেখুন যে কোন কাজ শুরু করার পূর্বে পূর্ব পরিকল্পনা করাটা অত্যন্ত জরুরী। তাই আপনি যদি ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার শুরু করতে চান সেক্ষেত্রে অবশ্যই কিছু গাইডলাইন মেনটেইন করতে হবে। তাহলে চলুন ধারাবাহিকভাবে কিছু বিষয় জেনে নেই।

  • আপনি যদি ক্যারিয়ার হিসেবে ফ্রিল্যান্সিং পেশাকে গ্রহণ করেন তাহলে অবশ্যই আপনাকে এটা বুঝতে হবে, এর প্রতি আপনি কতটা আগ্রহী। কারণ কোন কাজের প্রতি আগ্রহ থাকলে তবেই সে কাছে সফলতা অর্জন করা সম্ভব।
  • ফ্রিল্যান্সিং পেশা আপনার কাছে কেমন মনে হয়? সেই সাথে আপনি ফ্রিল্যান্সিং ফুল টাইম হিসেবে করতে চান নাকি পার্ট টাইম। অর্থাৎ সরকারি চাকরির পাশাপাশি কি আপনি এই টুকটাক ফ্রিল্যান্সিং কে কাজে লাগাতে চান নাকি আপনি নিজের সম্পন্ন ক্যারিয়ার ফ্রিল্যান্সিং কে ঘিরে করতে চান? অবশ্যই ডিসাইড করতে হবে।
  • এরপর আপনি কি ধরনের কাজ করতে চান? দেখুন কোন মানুষের পক্ষে সবগুলো কাজ একসাথে করা পসিবল নয়। তাই ফ্রিল্যান্সিং এর অনেক অনেক কাজের মধ্যে থেকে কোনটা আপনার ভালো লাগে, কোনটাতে আপনি অনেক বেশি দক্ষ, বা খুব তাড়াতাড়ি শিখে নিতে পারবেন এবং প্রফেশনালি করতে পারবেন সেটা নিয়ে নির্বাচন করতে। 
  • ফ্রিল্যান্সিং করার মত যদি কোন দক্ষতা না থাকে সেক্ষেত্রে কাজ পাওয়া যাবে এমন পছন্দ মত দক্ষতা অর্জনের কাজে আপনাকে নামতে হবে। কোন কাজ করলে তবেই দক্ষতা অর্জন করা যায়। ফ্রিল্যান্সিং এর অনেক অনেক কাজের মধ্যে থেকে আপনি যদি একটা কাজ নির্বাচন করেন এবং সেটা নিয়ে কিছুদিন এনালাইসিস করেন তাহলে খুব সহজেই আপনি সেই সম্পর্কে অনেকটাই আয়ত্ত করতে পারবেন। এজন্য শুরুর দিকে কিছুটা স্কিল অর্জনের দিকে টাইম দিতে হবে।
  • আপনি যদি মনে করেন আপনি এখন কাজ করতে সক্ষম আপনার দক্ষতা অর্জন হয়ে গেছে, পরবর্তীতে আপনি প্রফেশনালি কাজ করতে শুরু করবেন। এতে করে আপনার কাজ ভালো হবে এবং আপনি আলাদা একটা পরিচিতি গড়ে তুলতে পারবেন।
  • শুরুতে ছোটখাটো কাজ দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং জীবন শুরু করবেন। এরপর ধীরে ধীরে আরো অনেক বেশি জানতে চানতে আপনি আপনার কাজের ইম্প্রুভ করবেন।
  • যখন আপনি অনেক কাজ করে ফেলবেন তখন আপনার করা সেরা কাজগুলো থেকে নিজের একটা পোর্টফলিও তৈরি করবেন। এতে করে আপনার হায়ার করার ক্ষেত্রে ক্লায়েন্টকে প্রভাবিত করতে খুব বেশি কষ্ট হবে না। 
  • অবশ্যই নিজেকে প্রফেশনাল হিসেবে নিজের একটা নেটওয়ার্ক তৈরি করবেন। মনে রাখবেন আপনার পরিচিতি যত হবে আপনি তত বেশি ভালো কাজ করতে পারবেন এবং আপনার ফ্রিল্যান্সিং জীবন সফলতা নিয়ে আসবে।

ফ্রিল্যান্সিং করে কত টাকা ইনকাম করা যায়?

দেখুন ফ্রিল্যান্সিং করে মানুষ হাজার টাকা ইনকাম করতে পারবে আবার লাখ টাকাও ইনকাম করতে পারবে। এটা মূলত কাজের উপর নির্ভর করবে। সত্যি বলতে আপনি যদি প্রফেশনালি শুধুমাত্র রাইটিং এর কাজ করতে পারেন তবুও আপনার মাস শেষে ৪০ হাজার প্লাস টাকা ইনকাম করা সম্ভব। এমনকি আপনি এক লক্ষ টাকাও ইনকাম করতে পারবেন। এজন্য আপনাকে নিজেকে একজন প্রফেশনাল ওয়ার্কার হিসেবে তৈরি করতে হবে। আর যদি বলেন ফ্রিল্যান্সিং এর ভবিষ্যৎ কি তাহলে এটা সত্যি বলার অপেক্ষা রাখে না, দিন যত যাবে ফ্রিল্যান্সিংয়ের কদর ততই বাড়বে। 

সুতরাং সবশেষে একটা কথাই বলবো, জীবনে যদি নিজে নিজের বস হতে চান এবং স্বাধীন ভাবে বাঁচতে চান তাহলে ফ্রিল্যান্সিং হচ্ছে আপনার জন্য উপযুক্ত ও আদর্শ পেশা। পাঠক বন্ধুরা, আমাদের আজকের আলোচনা এ পর্যন্তই। যদি কোন মন্তব্য থেকে থাকে কমেন্ট করে জানাবেন সেইসাথে অবশ্যই আমাদের ওয়েবসাইট নিয়মিত ভিজিট করবেন। সবাই ভাল থাকবেন সুস্থ থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Subscribe To Our Newsletter