November 27, 2022

কনটেন্ট লিখে আয় করার উপায় | আর্টিকেল লিখে আয় করার গাইডলাইন: কনটেন্ট রাইটিং একটি ক্রিয়েটিভ পেশা। ফ্রিল্যান্সিং জীবনে রাইটিং বা ব্লগিং করে অনেক ভালো মানের টাকা উপার্জন করা সম্ভব হয়। এটি এমন একটা মাধ্যম, যার সাহায্যে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন জ্ঞান অন্বেষণ করা যায় সেইসাথে নিজের ক্রিয়েটিভ মাইন্ড কে তুলে ধরা যায়।

কনটেন্ট রাইটিং মূলত সৃজনশীল মূলক একটি কাজ। আর অনলাইন প্লাটফর্মে যেকোনো কাজের ক্ষেত্রে এই কনটেন্ট অর্থাৎ আর্টিকেলের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। ইউটিউব হোক, ফেসবুক হোক, google হোক অথবা ইনস্টাগ্রাম, প্রত্যেকটি প্লাটফর্মে যে কোন কাজ করার জন্য প্রয়োজন কনটেন্ট এর। আর ঠিক এই কারণে অনলাইন মার্কেটপ্লেসে আরজিকেল লিখে খুব সহজেই টাকা ইনকাম করা যায়।

আপনারা যারা অনলাইনে কাজ করার জন্য চিন্তা ভাবনা করছেন যে, কোনটির মাধ্যমে আপনি আপনার ফ্রিল্যান্সিং জীবন শুরু করবেন! তাহলে আমরা আপনাদেরকে সাজেস্ট করবো কনটেন্ট রাইটিং। কেননা কনটেন্ট রাইটিং এর ডিমান্ড অনেক বেশি অনলাইন মার্কেটপ্লেসে।

আর্টিকেল/কনটেন্ট কি?

কনটেন্ট শব্দটি ইংরেজি। এর অর্থ হচ্ছে বিষয়বস্তু। কনটেন্ট অথবা আর্টিকেল দ্বারা বোঝানো হয়ে থাকলে–কোন একটি বিষয়ের উপর বিস্তারিত বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরার মাধ্যম বা বোধগম্য প্রক্রিয়াকে। আর এটা হতে পারে কোন লিখিত কনটেন্ট, অডিও পডকাস্ট, পিপিটি ডক ফাইল, পিডিএফ ফাইল, ভিডিওগ্রাফি ছবি ইত্যাদি ইত্যাদি।

তবে বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও প্রচলিত কনটেন্ট হচ্ছে লিখিত কনটেন্ট। যেটা আমরা আমাদের ব্লগ সাইটের জন্য লিখে থাকি। তাছাড়াও ইউটিউবে ভিডিও তৈরীর জন্য আমরা ভয়েস এর আগ মুহূর্তে যে আর্টিকেলটি লিখি সেটাও হচ্ছে কন্টেন্ট। এক কথায় কনটেন্ট হচ্ছে কোন বিষয়ের উপর ভিত্তি করে লেখা ছোট অথবা লম্বা কম্পোজিশন। যেটা পড়ার মাধ্যমে ইউজারস সেই বিষয়ে বস্তুর ওপর সম্পূর্ণ ধারণা অর্জন করতে পারে, যেটা মানুষকে অনেক কিছু জানাতে সাহায্য করে। এবার চলুন পরবর্তী স্টেপে জেনে নেই কনটেন্ট রাইটিং কি বা আর্টিকেল রাইটিং কাকে বলে।

কনটেন্ট রাইটিং কি/আর্টিকেল রাইটিং বলতে কী বোঝায়?

কনটেন্ট রাইটিং হচ্ছে একটি লেখার টুকরা, যেটা আমরা মিনিমাম ৩০০ শব্দের ভেতরে লিখে থাকে। দেখুন অনেক সময় আমরা মানুষ লম্বা লম্বা লেখা পড়তে একদম পছন্দ করি না। খুবই বোরিং ফিল হয়। আর ঠিক এই কারণে শর্টকাটে যেকোন বিষয়বস্তুর ওপর সম্পূর্ণ কিছু জানতে এবং অল্প সময়ের মধ্যে আয়ত্ত করতে বিভিন্ন মাধ্যম খুঁজে বেড়াই। আর রাইটিং এর মাধ্যমে মূলত কোনো বিষয়বস্তুর সম্পূর্ণ ইনফরমেশন অল্প আলোচনার মাধ্যমে প্রকাশ করা সম্ভব হয়।

কনটেন্ট রাইটিং হচ্ছে কোন বিষয়বস্তুর উপর ভিত্তি করে লেখা অংশ। যেকোনো আর্টিকেল মূলত আমরা কোন বিষয়ে বা সাবজেক্ট এর উপর ভিত্তি করে লিখি। সেটা হতে পারে শিক্ষনীয় বিষয়, হতে পারে ইনফরমেটিভ আবার হতে পারে ফ্যাক্ট বিষয়। কনটেন্ট মূলত বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। যেমন: ডিজিটাল, কপিরাইট ফ্রি কনটেন্ট, ব্লগ আর্টিকেল, ইউটিউব আর্টিকেল প্রভৃতি। এক কথায় কোন বিষয়ের উপর ভিত্তি করে সম্পূর্ণ একটা ভাবধারা ফুটিয়ে তোলাই হচ্ছে, কন্টেন্ট বা আর্টিকেল রাইটিং।

কনটেন্ট রাইটিং এর মাধ্যমে ইনকাম

দেখুন ইতিমধ্যে আমরা জেনেছি, অনলাইন মার্কেটপ্লেসে কনটেন্টের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। যেকোনো প্ল্যাটফর্মে কাজের জন্য ভালো মানের কনটেন্ট বড্ড প্রয়োজন। আর এর জন্য প্রতিনিয়ত ইউনিক কনটেন্ট রাইটার মানুষ খুঁজে বেড়ায়। যারা কনটেন্টস লেখে তাদেরকে বলা হয় কনটেন্ট রাইটার বা আর্টিকেল রাইটার। বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং মাধ্যমে কনটেন্ট রাইটিং এর ডিমান্ড বেশি। এমন অনেক উপায় রয়েছে যার মাধ্যমে কনটেন্ট রাইটিং করে আয় করা সম্ভব। তবে আপনি যদি কনটেন্ট রাইটিংকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে চান সে ক্ষেত্রে কিছুটা সময় লাগবে।

কেননা আপনি যেহেতু লেখালেখি করবেন তাই লেখালেখি সম্পর্কে সম্পূর্ণ বিষয়ে আয়ত্ত করতে হবে। তার চাইতে বড় কথা আপনি কোন বিষয় সম্পর্কে ইউনিকভাবে তখন লিখতে পারবেন যখন সেই বিষয়টি সম্পর্কে আপনি জানবেন। দেখুন এই যে আমি আজকের এই আর্টিকেলটি লিখছি, এটা শুধুমাত্র সম্ভব হচ্ছে আমি এই সম্পর্কে জানি তাই। কারণ কনটেন্ট রাইটিং আমার প্যাশন। এ বিষয়ে আমি অভিজ্ঞ এবং আমার পূর্বের অভিজ্ঞতা রয়েছে সেই সাথে লেখালেখি করতে ভালো লাগে।

পাশাপাশি কনটেন্ট লিখতে কি কি বিষয় ফলো করতে হয়? কোন কোন বিষয়ে উল্লেখ করতে হয় এ সম্পর্কে আমি অবগত। তাই যারা কনটেন্স লিখে আয় করতে চান তাদের অবশ্যই দক্ষতা অর্জন করতে হবে। আর যদি কোন বিষয়ে কেউ দক্ষতা অর্জন করতে পারে তাহলে তাকে কেন্দ্র করে ইনকাম করা অবশ্যই সম্ভব।

আর্টিকেল লিখে আয় করার উপায়

দেখুন আর্টিকেলের প্রয়োজনীয়তা কি আপনারা ইতোমধ্যে এটা আয়ত্ত করতে পেরেছেন আশা করি। এখন আমরা জানবো আপনি যদি আর্টিকেল লিখে ইনকাম করতে চান তাহলে আপনি কি কি উপায়ে অবলম্বন করতে পারবেন। তাহলে চলুন জেনে নেই আপনি যদি নিজেকে একজন ভালো মানের কনটেন্ট রাইটার হিসেবে তুলে ধরতে পারেন তাহলে অনলাইন সেক্টরে আপনি কি কি কাজ করে ইনকাম করতে পারবেন।

ফ্রিল্যান্সার/রাইটার
দেখুন আপনি চাইলে বিভিন্ন ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেসে গিয়ে ক্লাইন্ট খুঁজে বের করে আলোচনা সাপেক্ষে একটা এমাউন্টের বিনিময়ে কন্টেন্ট রাইটিং এর কাজ শুরু করতে পারবেন। এক কথায় আপনি রাইটার হিসেবে আর্টিকেল লিখে আয় করতে পারবেন। তবে এর জন্য মূলত আপনাকে ভালোভাবে লিখতে জানতে হবে, আপনি যে রাইটার তার একটা প্রমাণ থাকতে হবে, ক্লাইন্টকে বোঝানোর জন্য আপনার কাছে একটা ডেমো থাকতে হবে রাইটিং এর।

আর পরবর্তীতে আলোচনা সাপেক্ষে আপনি সেই ক্লায়েন্টের সাইট অর্থাৎ ব্লগে আর্টিকেল লিখে পাবলিশ করে একটা ভালো এমাউন্ট নিজের একাউন্টে নিয়ে আসতে পারবেন। তাই আর্টিকেল লিখে ইনকাম করার প্রথম এবং সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে রাইটার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা।

কনটেন্ট মার্কেটার
কনটেন্ট মার্কেটের হচ্ছে তিনি যিনি নিজের ওয়েবসাইটের জন্য কনটেন্ট লেখেন। মানে আপনি আপনার নিজস্ব ব্লগ সাইটে নিজেই সবকিছু করেন এবং নিজেই আর্টিকেল লিখেন অডিয়েন্সদের আকৃষ্ট করার জন্য। এই মাধ্যমে যদি আপনি আগাতে চান তাহলে টাকা ইনকাম করতে অনেকটা সময় লাগবে তবে, সময় লাগলেও অনেক বেশি অ্যামাউন্টের টাকা ইনকাম করা সম্ভব হবে আপনাকে দিয়ে। কারণ ব্লগিং করে মানুষ এখন মাস শেষে ৫০-৬০ থেকে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ইনকাম করতে সক্ষম হচ্ছে।

গেস্ট ব্লগিং
এটা মূলত অন্যের ব্লগে গেস্ট হিসেবে পোস্ট দেওয়া কে বোঝায়। কোন বিষয়বস্তুর উপর আপনি কনটেন্ট লিখলেন এবং তা অন্যের সাইটে পোস্ট করলেন। এক্ষেত্রে পারিশ্রমিক হিসেবে কোন পেমেন্ট পাওয়া যায় না সচরাচর। এই পদ্ধতির মাধ্যমে ব্যাকলিংক তৈরি করা যায়। যেটা ওয়েবসাইটের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। তবে গেস্ট পোস্ট করেও অর্থ উপার্জন করাটা অনেক বেশি কার্যকরী।
এক কথায় আপনি কনটেন্ট রাইটিং এর মাধ্যমে ইনকাম করতে চাইলে টাকা ইনকামের রাস্তা হচ্ছে:

  • বিভিন্ন ব্লগে পোস্ট করে আয়
  • লিস্ট আর্টিকেল লিখে আয়
  • কপিরাইট থেকে আয়
  • বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস থেকে আর্টিকেল লিখে আয়
  • নিজের আর্টিকেল বিক্রি করার মাধ্যমে আয়

আশা করি এই কয়েকটি মাধ্যমের মধ্যে একটি মাধ্যমই আপনাদের জন্য যথেষ্ট রাইটিং এর মাধ্যমে টাকা ইনকাম করার জন্য। এবার চলুন জেনে নেই আপনি যদি একজন কন্টেন্ট রাইটার হতে চান রাইটিং এর জন্য আপনার কি কি প্রয়োজন পড়বে?

কনটেন্ট লেখার জন্য কি কি প্রয়োজন?

সবার প্রথমে প্রয়োজন ক্রিয়েটিভ মাইন্ডের। তারপর প্রয়োজন ভালো একটা ফোনের। সেই সাথে অবশ্যই ইন্টারনেট সংযোগ এবং নিজের একটা সোশ্যাল একাউন্ট এর। আর এই কয়েকটি বিষয় যদি থাকে এবং আপনি যদি ইংরেজিতে পারদর্শী হয়ে থাকেন আর সবকিছু সুন্দরভাবে গুছিয়ে লেখার টেকনিক আয়ত্ত করতে পারেন তাহলে আপনার জন্য কনটেন্ট রাইটিং সফলতা বয়ে নিয়ে আসতে পারবে। এক কথায় কনটেন্ট লেখার জন্য আপনার একটি ফোন, ভালো ইন্টারনেট সংযোগ এবং ভালো লেখার টেকনিক এর প্রয়োজন।

কনটেন্ট রাইটিং এর জন্য কি যোগ্যতা প্রয়োজন?

দেখুন প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা যদি আপনার নাও থাকে content writing এ কোন রকমের প্রভাব পড়বে না। আপনাকে যে কনটেন্ট রাইটিং এর কাজ করতে গেলে মাস্টার্স পাশ হতে হবে এমন কোন কথা নেই। কিন্তু অবশ্যই আপনার বেশি বেশি বই পড়ার মন-মানসিকতা থাকতে হবে। কারণ একটা মানুষ তখনই সেই বিষয় সম্পর্কে জানতে পারবে যখন সে সে বিষয়টি সম্পর্কে সম্পূর্ণ জানে। তাই কনটেন্ট রাইটার হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে চাইলে যে যে গুনাবলী আপনার মধ্যে থাকতে হবে সেগুলো হচ্ছে:

  • বেশি বেশি বই পড়ার অভ্যাস
  • ইউনিক কনটেন্ট লেখার সক্ষমতা
  • ক্রিয়েটিভ মাইন্ড
  • ইংলিশে দক্ষ
  • বাংলা গুছিয়ে লেখার ক্যাপাসিটি
  • অনলাইন প্লাটফর্ম সম্পর্কে বেসিক ধারণা রাখা।

কি কি বিষয়ের উপর কনটেন্ট লিখে আয় করা যায়?

কনটেন্ট মূলত বিভিন্ন ধরনের উপর লেখা হয়। সত্যি বলতে আর্টিকেলের জন্য এক লম্বা লিস্ট রয়েছে। এমন অসংখ্য বিষয় রয়েছে যেগুলোর ওপর ভিত্তি করে আপনি আর্টিকেল লেখার কাজ শুরু করতে পারেন। এ পর্যায়ে চলুন কয়েকটা বিষয়ের নাম আপনাদেরকে সাজেস্ট করা যাক:

  • অনলাইন আয় সম্পর্কিত আর্টিকেল লিখে
  • মোবাইল ম্যানিয়া সম্পর্কিত আর্টিকেল লিখে
  • ডিজাইন ডেস্ক সম্পর্কিত আর্টিকেল লিখে
  • টেক ট্রেন্ড সম্পর্কিত আর্টিকেল লিখে
  • পিসি হেল্প সংক্রান্ত আর্টিকেল লিখে
  • ব্লগিংয়ের মাধ্যমে ইত্যাদি ইত্যাদি

 

বাংলা আর্টিকেল লিখে আয় করার সেরা ওয়েবসাইট গুলো কি কি?

আপনি যদি আর্টিকেল লিখে আয় করতে চান তাহলে যেসব ওয়েবসাইটের সাথে কাজ করতে পারেন সেগুলো হলো:

  • জেআইটি
  • রোর বাংলা
  • অর্ডিনারি আইটি
  • প্রতিবর্তন ডট কম
  • টেকটিউনস
  • ইনকাম টটিউনস

মূলত এই ওয়েবসাইটগুলো অনেক বেশি বিশ্বস্ত এবং আপনি খুব সহজেই এদের সাথে কাজ করে ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার শুরু করতে পারবেন।

ভালো আর্টিকেল লেখার উপায়

আপনি যদি নিজেকে একজন প্রফেশনাল রাইটার হিসেবে তুলে ধরতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে ভালো আরজিক্যাল লেখার টেকনিক জানতে হবে। এর জন্য যে বিষয়গুলো মাথায় রাখবেন।

  1. স্পষ্ট আকর্ষণীয় এবং ছোট ছোট লাইনে ভাববাক্য প্রকাশ করা
  2. ছোট ছোট প্যারাগ্রাফ আকারে আর্টিকেল লেখা
  3. লেখার মাঝে হেডিং ব্যবহার করা
  4. মিনিমাম ৫০০ থেকে ১৫০০ ওয়ার্ডের মধ্যে কনটেন্ট লেন্থ রাখা
  5. বোঝার সুবিধার্থে কখনো কখনো ইমেজ ব্যবহার করা।

তাছাড়াও নিজের মতো করে অডিয়েন্সদের সুবিধার কথা চিন্তা করে সুন্দর একটা ফরমেট তৈরি করে নেওয়াটা ভালো আর্টিকেল রাইটার এর একটি বিশেষ গুণ।

পরিশেষে: আশা করি এই কয়েকটি বিষয়ে মাথায় রেখে আপনারা খুব সহজেই কনটেন্ট রাইটিংকে নিজেদের পেশা হিসেবে বেছে নিতে পারবেন। যেহেতু অনলাইন মার্কেটপ্লেসে এর ডিমান্ড অনেক তাই এর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে। তো পাঠক বন্ধুরা, যদি কোন মতামত থেকে থাকে আমাদের কমেন্ট করে জানাবেন। নিয়মিত টিপস ও ট্রিকস রিলেটেড আর্টিকেল পেতে আমাদের সাথে থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Subscribe To Our Newsletter